Description
পিয়াজেটের তত্ত্বের ভিত্তি: গঠনবাদ (Constructivism)
পিয়াজেটের তত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে গঠনবাদ ধারণা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিশুরা নিষ্ক্রিয়ভাবে পরিবেশ থেকে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং তারা সক্রিয়ভাবে তাদের নিজস্ব জ্ঞান নির্মাণ করে। এই প্রক্রিয়ায়, শিশুরা তাদের পূর্বের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার সাথে নতুন তথ্যের মিথস্ক্রিয়া ঘটায় এবং এর ফলে তাদের বোঝার পদ্ধতি বা ‘স্কিমা’ পরিবর্তন করে।
- শিশুরা ছোট বিজ্ঞানী: পিয়াজে শিশুদেরকে ছোট বিজ্ঞানী হিসেবে দেখেছেন যারা তাদের চারপাশের জগতকে বোঝার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নতুন ধারণা তৈরি করে। তারা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে শেখে না, বরং তারা নিজেদের আবিষ্কারের মাধ্যমে শেখে।
জ্ঞানমূলক বিকাশের প্রক্রিয়া: অভিযোজন (Adaptation)
অভিযোজন হলো একটি মৌলিক জৈবিক প্রক্রিয়া যা জীবের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য অত্যাবশ্যক। পিয়াজে এই ধারণাকে জ্ঞানমূলক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। অভিযোজন দুটি পরিপূরক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে:
- আত্তীকরণ (Assimilation):
- ধারণা: নতুন তথ্য বা অভিজ্ঞতাকে বিদ্যমান স্কিমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শিশু তার বর্তমান মানসিক কাঠামো ব্যবহার করে নতুন তথ্যকে ব্যাখ্যা করে।
- উদাহরণ: একটি শিশু যে আগে শুধুমাত্র একটি কুকুরের স্কিমা তৈরি করেছে (চার পা, লোমযুক্ত, ঘেউ ঘেউ করে), সে যদি একটি বিড়াল দেখে এবং তাকে ‘কুকুর’ বলে ডাকে, তবে সে বিড়ালের নতুন তথ্যকে তার বিদ্যমান কুকুরের স্কিমায় আত্তীকরণ করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ, সে নতুন বস্তুকে পরিচিত স্কিমার মধ্যে ফিট করার চেষ্টা করছে।
- সহযোজন (Accommodation):
- ধারণা: যখন নতুন তথ্য বিদ্যমান স্কিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তখন নতুন স্কিমা তৈরি করা বা বিদ্যমান স্কিমা পরিবর্তন করা। এটি একটি আরও সক্রিয় প্রক্রিয়া যেখানে শিশু তার জ্ঞানীয় কাঠামোকে নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবর্তন করে।
- উদাহরণ: যখন শিশুটিকে বোঝানো হয় যে বিড়াল কুকুরের মতো নয়, এবং সে বিড়ালের জন্য একটি নতুন স্কিমা তৈরি করে (যেমন, ‘মিউ মিউ করে’, ‘আকার ছোট’), তখন এটি সহযোজন। শিশু তার মানসিক কাঠামোকে নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবর্তন করেছে।
- সামঞ্জস্য বিধান (Equilibration):
- ধারণা: এটি আত্তীকরণ এবং সহযোজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া। যখন শিশু নতুন তথ্যের মুখোমুখি হয় যা তার বিদ্যমান স্কিমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় (অর্থাৎ, জ্ঞানমূলক দ্বন্দ্ব বা ‘Disequilibrium’ অনুভব করে), তখন সে একটি মানসিক অস্বস্তি অনুভব করে। এই অস্বস্তি দূর করার জন্য, শিশু আত্তীকরণ বা সহযোজনের মাধ্যমে তার জ্ঞানীয় কাঠামোকে পুনর্গঠিত করে একটি নতুন ভারসাম্যে (Equilibrium) পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত চলতে থাকে এবং এর মাধ্যমেই জ্ঞানমূলক বিকাশ ঘটে।








Committees and Commissions on Education
রাধাকৃষ্ণান কমিশন ১৯৪৮_CLASS-XII_SEM-III_THEORY & MCQ
BIOLOGICAL SCIENCE_WBCHSE_2024_Question Paper
CURRENT SOCIOLOGICAL PROBLEMS_EDUCATION_SLST_MCQ
Contribution of Western Schools of Philosophy_SLST EDUCATION
Reviews
There are no reviews yet.